ঢাকা , রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ , ২৩ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

​রংপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৫-০৪-২০২৫ ০৯:৩৯:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৫-০৪-২০২৫ ০৯:৩৯:৪৬ অপরাহ্ন
​রংপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
রংপুরের বদরগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ছয় জন। শনিবার দুপুরে এ সংঘর্ষ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে দুজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানার ওসি এটিএম আতিকুর রহমান। তিনি জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সোয়া ৫টার দিকে গুরুতর আহত লাভলু মিয়া (৪৮) নামে একজন মারা গেছেন। তার বাবার নাম মহসীন মিয়া। বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের রাজারামপুর গ্রামে।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল হক মানিক, সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর মানিককে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ৭২ ঘণ্টার  মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বদরগঞ্জ পৌর শহরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহীদুল হক মানিকের সঙ্গে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের মধ্যে বেলা ১২টা থেকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাঁধে। উভয় পক্ষ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ এক পর্যায়ে বদরগঞ্জ পৌর শহরে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার ছবি নিতে গেলে বৈশাখী টিভির ক্যামেরা পারসন মুকুলসহ দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন– পাঠানপাড়া গ্রামের মোন্নাফ (৫০), কাঁচাবাড়ি গ্রামের  শফিকুল (৫২) , একই গ্রামের ময়নুল (২৫) ও মিতু (৪০) , বিরামপুর গ্রামের  মোখতার  (৫৩) , পান দোকানদার মংলু (৪০) এবং মধুপুর গ্রামের লাভলু মিয়া। আহতদের প্রথমে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে ৫ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাভলু মিয়া বিকাল সোয়া ৫টায় মারা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সাবেদ সরোয়ার। তিনি জানান, নিহত লাভলুর মাথার আঘাত ছিল গুরুতর।

এদিকে, দুপুর ১২টা থেকে সংঘর্ষ চলাকালে বদরগঞ্জ পৌর শহরে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে প্রকাশ্যেই দেশি অস্ত্র নিয়ে চলে সশস্ত্র মহড়া। দুপুর ২টা পর্যন্ত বদরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরে তাণ্ডব চালানো হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে শহরজুড়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।

বৈশাখী টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন মুকুল জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে ভিডিও ক্যামেরায় ছবি নিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে মোবাইল ফোনে ছবি নিতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। দু’ঘণ্টা পর তার মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। তবে নিউজ টুয়েন্টি ফোর টিভির আরেক ক্যামেরাপারসনের ফোন ফেরত দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান লাকু বলেন, ‘বদরগঞ্জের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল হক মানিক, সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার এবং উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীর মানিককে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারন দর্শাতে বলা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে সাবেক এমপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার জানান, গোলমালের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। তবে শুক্রবার রাতে বিএনপি নেতা শহীদুল হক মানিকের ছেলে তানভীর আহমেদ তমাল ফেসবুকে তাকে ডাকাত সরদার উল্লেখসহ বিভিন্ন আপত্তিকর কথা লিখে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। জেলা বিএনপির দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেবেন বলে জানান তিনি।

তবে অপর দুই বিএনপি নেতা শহীদুল হক মানিক ও হুমায়ুন কবীর মানিকের যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বদরগঞ্জ থানার ওসি এসএম আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স


এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ